Monday, June 16, 2025

'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক

 

'রক্তকরবী'-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক। মানুষের প্রবল লোভ কীভাবে জীবনের সমস্ত সৌন্দর্য স্বাভাবিকতাকে অস্বীকার করে মানুষকে নিছক যন্ত্রে উৎপাদনের উপকরণে পরিণত করেছে এবং তার বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ কী রূপ ধারণ করছে তারই রূপায়ণ এই নাটকে। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনে রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ। ১৩৩১ সনে প্রবাসীতে প্রকাশিত হয় নাটকটি।

রক্তকরবীর সংক্ষিপ্ত কাহিনি- যক্ষপুরীর রাজার রাজধর্ম প্রজাশোষণ; তার অর্থলোভ দুর্দম। তার সে লোভের আগুনে পুড়ে মরে সোনার খনির শ্রমিকরা। রাজার দৃষ্টিতে খনি শ্রমিকরা মানুষ নয়, তারা স্বর্ণলাভের যন্ত্রমাত্র, তারা যন্ত্রকাঠামোর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র্র অঙ্গ মাত্র, মানুষ হিসেবে তাদের কোনো মূল্য নেই। এখানে মনুষ্যত্ব, মানবতা যন্ত্রবন্ধনে পীড়িত অবমাননায় পতিত। জীবনের প্রকাশ যক্ষপুরীতে নেই। জীবনের প্রকাশের সম্পূর্ণরূপ-প্রেম সৌন্দর্য, 'নন্দিনী' চরিত্রটি তার প্রতীক। নন্দিনীর আনন্দস্পর্শ যক্ষপুরীর রাজা পাননি তার লোভের মোহে, সন্ন্যাসী পাননি তার ধর্মসংস্কারের মোহে, মজুররা পাননি অত্যাচার অবিচারের লোহার শিকলে বাঁধা পড়ে, পণ্ডিত পাননি দাসত্বের মোহে। যক্ষপুরীর লোহার জালের বাইরে প্রেম সৌন্দর্যের প্রতীক নন্দিনী সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকল; এক মুহূর্তে মুক্ত জীবনানন্দের স্পর্শে যেন সবাই চঞ্চল হয়ে উঠল। রাজা নন্দিনীকে পেতে চাইলেন যেমন করে তিনি সোনা আহরণ করেন, শক্তির বলে কেড়ে নিয়ে। কিন্তু প্রেম সৌন্দর্যকে এভাবে লাভ করা যায় না। তাই রাজা নন্দিনীকে পেয়েও পাননি। একইভাবে মোড়ল, পণ্ডিত, কিশোর, কেনারাম সবাই প্রাণপ্রাচুর্যের মধ্যে বাঁচার জন্য ব্যাকুল হয়ে জালের বাইরের দিকে হাত বাড়াল। কিন্তু নন্দিনী রঞ্জনকে ভালোবাসে তাই তার মধ্যে প্রেম জাগিয়ে তুলেছে। কিন্তু রঞ্জন যক্ষের বন্ধনে বাঁধা। যন্ত্র তার প্রেমকে জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল- এটাই যান্ত্রিকতার ধর্ম এবং কবি তা বিশ্বাস করেন। নন্দিনীর প্রেমাস্পদ যান্ত্রিকতার যূপকাষ্ঠে নিঃশেষিত হলো এবং আবার যেন প্রেমকে ফিরে পাওয়া যায় সে লক্ষ্যে জীবন জয়ী হলো। এই দৃষ্টিভঙ্গি রবীন্দ্রনাথের বহু কবিতায়, গানে, নাটকে, গল্পে পরিস্ম্ফুট হয়েছে। কবি রক্তকরবী নাটকটিতে জড় যান্ত্রিকতা জীবনধর্মের মধ্যে সেই সামঞ্জস্য সন্ধান করেছেন।

Sunday, June 15, 2025

ইউক্যালিপটাস গাছ 'সাক্ষাত রাক্ষস'

ইউক্যালিপটাস গাছকে 'সাক্ষাত রাক্ষস' বলা হয়, কারণ এটি পরিবেশের জন্য বেশ ক্ষতিকর। এটি দ্রুত পানি শোষণ করে এবং মাটির উর্বরতা হ্রাস করে, এছাড়াও এর পাতা থেকে টক্সিন নিঃসরণের ফলে আশেপাশের গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 
ইউক্যালিপটাস গাছ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
পানি শোষণ:
ইউক্যালিপটাস গাছ দ্রুত পানি শোষণ করে এবং পরিবেশে ছেড়ে দেয়, যার কারণে মাটির আর্দ্রতা কমে যায় এবং অন্যান্য গাছের জন্য পানির অভাব দেখা দেয়। 
মাটির উর্বরতা হ্রাস:
এই গাছের পাতা সহজে পচে না এবং মাটিতে মিশে যেতেও অনেক সময় লাগে। এতে মাটির উর্বরতা কমে যায় এবং অন্যান্য গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 
বিষাক্ত উপাদান:
ইউক্যালিপটাস গাছের পাতায় এমন কিছু উপাদান থাকে যা অন্যান্য গাছের জন্য ক্ষতিকর। এই উপাদানগুলো মাটির সংস্পর্শে আসলে আশেপাশের গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। 
শ্বাসকষ্টের কারণ:
কিছু ক্ষেত্রে ইউক্যালিপটাস গাছের ফুলের রেণু বাতাসে মিশে মানুষের শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। 
অগ্নিকাণ্ডের কারণ:
ইউক্যালিপটাস গাছ সহজে আগুন ধরে যায়, যা পরিবেশের জন্য আরও একটি বড় বিপদ। 
এই কারণে, ইউক্যালিপটাস গাছকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং 'সাক্ষাত রাক্ষস' হিসেবে গণ্য করা হয়। 

Job Books

 জব বুক পাওয়ার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন। 👉👉👉👉👉👉  ভ্রাইভ লিংক জব বুক পিডিএফ 👈👈👈👈👈👈 আপনার মোবাইলে বা পিসিতে সহজেই এক্সেস পেতে স...